দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এক বছরের ব্যবধানে রেলপথে পণ্য আমদানি কমেছে ৭০ হাজার টন। মূলত বেনাপোল-পেট্রাপোল রেলস্টেশন দিয়ে চলতি বছর কোনো ধরনের খাদ্যপণ্য না আসায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
রেলওয়ে সূত্রে বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল স্থলবন্দরে রেলপথে আমদানি হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৩০০ টন পণ্য, যা থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৮ হাজার ২০০ টন পণ্য আমদানি করা হয়েছিল। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে রেলপথে আমদানি কমেছে ৭০ হাজার টন। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ পথে ১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টন পণ্য আনা হয়েছিল।
জানা যায়, চলতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দরে রেলপথে কিছু স্লিপার আমদানি করা হলেও, কোনো খাদ্যপণ্য আসেনি। এছাড়া ক্লিংকার, স্টোনচিপ, কয়লা, সিমেন্টের কাঁচামাল, তুলা, ট্রাক্টর ও গার্মেন্ট উপকরণের আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
মূলত ভারত থেকে পণ্য আমদানির সময় প্রতিটি পণ্যের চালানের জন্য যে নির্দিষ্ট কয়েকটি বগি ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে একেকটি রেক বলা হয়। কিন্তু ভারতীয় রেলওয়ের রেক সংকট, বেনাপোল স্টেশনের দুর্বল অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রাংশের অভাব, শ্রমিক সংকট এবং কাস্টমস, রেল ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে এ পথে পণ্য আমদানিতে ধস নেমেছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, ‘আগে প্রতি সপ্তাহে চার-ছয়টি রেক পাওয়া যেত। এখন কোনো কোনো সপ্তাহে একটিও আসে না। তাই বাধ্য হয়ে সড়কপথে ঝুঁকছি।’
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, ভিসা জটিলতাসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গত ছয় মাসে বেনাপোল-পেট্রাপোল রেলস্টেশন দিয়ে আসেনি কোনো খাদ্যপণ্য বা কাঁচামাল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, ‘রেলপথে আমদানি কমে গেলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, যা সরাসরি বাজারে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।’ এ অবস্থায় ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থায়ী রেক সরবরাহ চুক্তি, আধুনিক রেল টার্মিনাল নির্মাণ, দ্রুত খালাস ব্যবস্থা এবং কাস্টমস, রেল ও বন্দর তিন পক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, ‘রেক সংকট আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, ভারতীয় রেলওয়ে নিয়মিত রেক সরবরাহ না করায় আমদানি ব্যহত হচ্ছে।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, ‘রেলের সমস্যা, ইয়ার্ড সংকট ও ভারতীয় রেলওয়ের অনিয়মিত রেক সরবরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা এ পথে আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি, যাতে খালাসের সময় কমে ও কাগজপত্রের জটিলতা দূর হয়।’